হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড বলায় ট্রাম্পকে ‘সিজোফ্রেনিক’ বললেন ইরানি মন্ত্রী

WhatsApp
Telegram
Facebook
Twitter
LinkedIn



হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ বলায় ট্রাম্পকে ইরানের কড়া জবাব

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন দাবির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কটাক্ষ করে ‘সিজোফ্রেনিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ওই মানচিত্রে এলাকাটিকে ‘New U.S. Territory’ বা ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি লেখেন, সিজোফ্রেনিয়ার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে হ্যালুসিনেশন ও ডিলিউশন রয়েছে। তার মন্তব্য মূলত ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ে করা দাবিকে ব্যঙ্গ করেই দেওয়া হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত, অবরোধ বা নৌযান চলাচলে বাধা তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মর্যাদা কি বদলে গেছে?

ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো মানচিত্র বা মন্তব্যের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক বা আইনগত মর্যাদা পরিবর্তিত হয় না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে। ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট এবং ইরানের পাল্টা মন্তব্য সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা